সলোমনের হৃদয় প্রভুর কাছ থেকে ফেরে

1. রাজা শলোমন নারীদের সান্নিধ্য পছন্দ করতেন

2. অতীতে প্রভু ইস্রায়েলের লোকদের এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, “তোমরা অন্য দেশের লোকদের বিয়ে করবে না, কারণ তাহলে ওরা তাদের মূর্ত্তিকে পূজা করতে তোমাদের প্রভাবিত করবে

3. শলোমনের 700 জন স্ত্রী ছিল

4. শলোমনের তখন বয়স হয়েছিল, স্ত্রীদের পাল্লায় পড়ে তিনি অন্যান্য মূর্ত্তির পূজা করতে শুরু করেন

5. শলোমন সীদোনীয় দেবী অষ্টোরত এবং অম্মোনীয়দের ঘৃণ্য পাষাণ মূর্ত্তি মিল্কমের অনুগত হন

6. অতএব শলোমন প্রভুর সামনে ভুল কাজ করলেন

7. এমনকি তিনি মোয়াবীয়দের ঘৃণ্য মূর্ত্তি কমোশের আরাধনার জন্য জেরুশালেমের পাশেই পাহাড়ে একটা জায়গা বানিয়ে দিয়েছিলেন

8. এই ভাবে রাজা শলোমন তাঁর প্রত্যেকটি ভিন্দেশী স্ত্রীর আরাধ্য মূর্ত্তির জন্য একটি করে পূজোর জায়গা করে দেন, আর তাঁর স্ত্রীরা ধূপধূনো দিয়ে সেই সব জায়গায় তাদের মূর্ত্তিসমূহের কাছে বলিদান করত

9. এই ভাবে রাজা শলোমন প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বরের, কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন

10. তাঁকে অন্য মূর্ত্তির পূজা করতে নিষেধ করা সত্ত্বেও শলোমন সেই নিষেধ মানেন নি

11. তখন প্রভু শলোমনকে বললেন, “শলোমন, তুমি চুক্তি ভঙ্গ করেছ

12. কিন্তু য়েহেতু আমি তোমার পিতা দায়ূদকে ভালোবাসতাম আমি তোমার জীবদ্দশায় তোমার রাজ্য তোমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেব না

13. তবে আমি তার কাছে থেকে গোটা রাজত্ব কেড়ে নেব না, তার শাসন করার জন্য একটি পরিবারগোষ্ঠী রেখে দেব

সোলায়মানের প্রতিপক্ষ

14. সে সময় প্রভু ইদোমীয় হদদকে শলোমনের শত্রু করে তুললেন

15. এক সময় দায়ূদ ইদোমকে পরাজিত করেছিলেন

16. য়োয়াব ও ইস্রায়েলের লোকরা সে সময়ে 6 মাস ইদোমে ছিলেন

17. সে সময়ে হদদ ছিল নেহাতই শিশু

18. মিদিয়ন পার হয়ে তারা পারণে গিয়ে পৌঁছলে আরো কিছু লোক তাদের সঙ্গে য়োগ দেয়

19. ফরৌণ হদদকে খুবই পছন্দ করতেন

20. ফরৌণের স্ত্রী তহপনেষের বোনকে হদদ বিয়ে করার পর গনুবত্‌ নামে তার একটি পুত্র হয়

21. এদিকে মিশরে থাকাকালীন হদদ দায়ূদের মৃত্যু সংবাদ পেল

22. কিন্তু ফরৌণ তার উত্তরে বললেন, “আমি তোমাকে এখানে তোমার যা কিছু প্রয়োজন তা দিয়েছি

23. ইলিয়াদার পুত্র রষোণকেও ঈশ্বর শলোমনের শত্রু করে তুলেছিলেন

24. দায়ূদ সোবার সেনাবাহিনীকে যুদ্ধে হারানোর পর রষোণ কিছু লোকদের জোগাড় করে একটা ছোট সেনাবাহিনীর প্রধান হয়ে বসেন

25. রষোণ অরামে রাজত্ব করতেন ও ইস্রায়েলের প্রতি তাঁর তীব্র বিদ্বেষ ছিল

যারবিয়ামের বিদ্রোহ

26. নবাটের পুত্র যারবিয়াম ছিল শলোমনের জনৈক ভৃত্য

27. এই হল সেই গল্প, কেন যারবিয়াম রাজার বিরুদ্ধে গেল

28. যারবিয়াম য়থেষ্ট শক্তসমর্থ ছিল এবং শলোমন দেখলেন, ‘এই তরুণটি একজন সুদক্ষ কর্মী

29. এক দিন যখন যারবিয়াম জেরুশালেম থেকে বাইরে যাচ্ছিল তখন শীলোনীয ভাববাদী অহিযের সঙ্গে তার পথে দেখা হল

30. সেই জনশূন্য প্রান্তরে অহিয তাঁর নতুন জামাটিকে ছিঁড়ে বারোটি টুকরো করেন

31. তারপর যারবিয়ামকে বললেন, “জামার 10 টি টুকরো তোমার নিজের জন্য নাও

32. আমি দায়ূদের উত্তরপুরুষদের শুধুমাত্র একটি পরিবারগোষ্ঠীর ওপর শাসন করতে দেব

33. আমি শলোমনের কাছ থেকে রাজত্ব কেড়ে নেব কারণ শলোমন আমার উপাসনা বন্ধ করেছে

34. একারণেই আমি শলোমনের পরিবারের হাত থেকে রাজ্য কেড়ে নেব

35. তবে তার পুত্রের হাত থেকে আমি অবশ্যই রাজত্ব নিয়ে নেব

36. শলোমনের সন্তান একটি পরিবারগোষ্ঠীর ওপর শাসন করবে

37. কিন্তু, তা বাদে, আমি তোমায় তোমার চাহিদা মত আর সমস্ত কিছুরই ওপর শাসন করতে দেব

38. যদি তুমি সত্‌ পথে থেকে আমার নির্দেশ মেনে চলো, তাহলেই আমি তোমার জন্য এই সব করব

39. শলোমনের কৃতকার্য়ের জন্যই আমি দায়ূদের বংশধরদের শাস্তি দেব, তবে অবশ্যই তা বরাবরের জন্য নয়

40. শলোমন যারবিয়ামকে হত্যা করার চেষ্টা করলেন

সলোমনের মৃত্যু

41. শলোমন তার শাসন কালে বহু বড় বড় কাজ করেছিলেন

42. শলোমন জেরুশালেমের অন্তর্গত ইস্রায়েলে 40 বছর রাজত্ব করেছিলেন

43. তারপর তিনি যখন মারা গেলেন তাঁকে দায়ূদ শহরে সমাধিস্থ করা হল

Bibles

Books

Chapters